ফটো সিরিজ: নিয়ন্ত্রক-নিয়ন্ত্রিত

—————–

  

১। নিয়ন্ত্রক

২। নিয়ন্ত্রিত

৩। সহাবস্থান

ভাবনা:

নিয়ন্ত্রক নিয়ন্ত্রিতের দূরত্ব যত বাড়বে কর্মক্ষমতা তত কমবে। একসময় তা শূন্যে পরিণত হবে…

নিয়ন্ত্রক-নিয়ন্ত্রিতের সহাবস্থানে সম্ভব চির-উন্নয়নশীল অগ্রসরতা…

তুই কি আমার দুঃখ হবি?
–আনিসুল হক

তুই কি আমার দুঃখ হবি?
এই আমি এক উড়নচন্ডী আউলা বাউল
রুখো চুলে পথের ধুলো
চোখের নীচে কালো ছায়া
সেইখানে তুই রাত বিরেতে স্পর্শ দিবি।

তুই কি আমার দুঃখ হবি?
তুই কি আমার শুষ্ক চোখে অশ্রু হবি?
মধ্যরাতে বেজে ওঠা টেলিফোনের ধ্বনি হবি?
তুই কি আমার খাঁ খাঁ দুপুর
নির্জনতা ভেঙে দিয়ে
ডাকপিয়নের নিষ্ঠ হাতে
ক্রমাগত নড়তে থাকা দরজাময় কড়া হবি?
একটি নীলাভ এনভেলাপে পুরে রাখা
কেমন যেন বিষাদ হবি?

তুই কি আমার শুন্য বুকে
দীর্ঘশ্বাসের বকুল হবি?
নরম হাতের ছোঁয়া হবি?
একটুখানি কষ্ট দিবি,
নীচের ঠোট কামড়ে ধরা রোদন হবি?
একটুখানি কষ্ট দিবি
প্রতীক্ষার এই দীর্ঘ হলুদ বিকেল বেলায়

কথা দিয়েও না রাখা এক কথা হবি?

একটুখানি কষ্ট দিবি

তুই কি একা আমার হবি?
তুই কি আমার একান্ত এক দুঃখ হবি?

………………………


কবিতাটির আবৃত্তির ভিডিও দেখতে এখানে ক্লিক করুন

একটি শিক্ষামূলক পোস্ট
**জুনিয়রদের জন্য অবশ্যপাঠ্য**

ছোটবেলা থেকেই গণিত বিষয়ে বেশ কাচা ছিলাম। যদিও ছিলাম সামনের সারির ছাত্র, কিন্তু দুনিয়ার অন্য সকল বিষয়ে দশে সাত-আট হলেও গণিতে এসে ধরা। অন্য সাবজেক্টগুলা দিয়ে সম্মানজনক অবস্থান কোনরকমে ঠেকনা দিয়ে রাখতাম।  পাশের সিটের অন্যদের কাছে গণিতের মারপ্যাচ নিতান্তই মামুলি হলেও আমার কাছে বরাবরের মতই দুর্বোধ্য। টিচারের পড়ানোগুলো মাথার উপর দিয়ে যায়, মাথায় ঢোকে না; কিন্তু মানহানিকর মাইর আর রেপুটেশন-ইজ্জতের কথা ভেবে কিচ্ছুটি না বুঝলেও সব বুইঝা ফেলসি বলে ব্যপক ভাব নিতাম। সেখানেই, ফ্রেন্ডস, সেখানেই ছিলো ভুল!! সেই ভাব ধরাটাই সাহসের অভাবে অভিশাপ হলো কালে কালে। 
তখন যদি মান-সম্মান-ইজ্জত সাইডে রেখে সাহস করে টিচারকে বলতাম স্যার বুঝিনাই, আরেকবার বুঝায়ে দ্যান! তাহলে হয়তো আজকে গণিত নিয়ে এরকম নাকানি-চুবানি খাওয়া লাগতো না।
ছোট ভাই ও বোনেরা তোমরা এরম ভুল কইরো না প্লিজ, না বুঝলে সাহস করে টিচারকে আর একবার জিজ্ঞেস কইরো…!

আজকের এই বিশেষ দিনে বিভিন্ন পেইজে, প্রোফাইলে একটা বেশ কমন বলা যায় বহুল প্রচলিত একটা প্রশ্ন দেখি। প্রতি বছরই দেখি- “আচ্ছা, আমরা কি এখনও স্বাধীন হতে পেরেছি?”
খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা প্রশ্ন। কিন্তু কথা হলো প্রশ্নটা কার? কাকে উদ্দেশ্য করে প্রশ্নটা করা হচ্ছে? কেইবা এর জবাব দেবে???
ভেবে দেখুন, সবগুলোর উত্তরই হবে ‘আমরা, আমাদের”! কী বুঝলেন?
আমরা যখন আমাদেরই নিজেদেরকেই প্রশ্ন করি আমরা স্বাধীন কিনা, তখন মাথায় রাখতে হবে, ৪৪ বছর আগে আমাদের বাপ-চাচা রা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে, কেউকেউ নিজের জীবন বিসর্জন দিয়ে একটা দেশের স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছিলেন, আর আমরা আজ সেই স্বাধীনতা নিয়ে কী করছি? যে অবস্থার জন্য আজকে এই প্রশ্ন আপনার মনে আসে সেই অবস্থার জন্য দায়ী কারা? ভাইসব, এটার উত্তরও কিন্তু ‘আমরা’!
রাজনীতির কথা বলবেন? রাজনীতি করে কারা? ‘আমরা’! (ভ্রু কুঁচকাবেন না মশাই, নখের নীচে ভোটের কালো দাগ কিন্তু এখনো মোছে নাই, আপনার পক্ষপাতিত্বের স্বাক্ষর হয়ে জ্বলজ্বল চিহ্ন লেগে আছে এখনো। আপনার ভোটে নির্বাচিতজন যদি কোন অন্যায় করে সে অন্যায়ের সমান ভাগীদার আপনি নিজেও।)
এই ‘আমরা’ নিয়েই আমাদের এই দেশটা। এই ছোট্ট কমবয়েসী একটা দেশের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলবার আগে একবার ভাবুন না, আপনি, হ্যাঁ আপনাকেই বলছি, ‘আপনি নিজে’ দেশটার প্রতি কতটা যত্নবান! দেশের কল্যানে ‘আপনি নিজে’ কতটা নীতিবান! আমাদের স্বাধীনতা নামক সোনার হরিণ পাওয়ার যোগ্যতা কতখানি!
দেশ অনেক বড় বিষয়, আসুন আগে আমরা নিজেদের প্রশ্ন করি…

বিজয় দিবস, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৪
‪#‎BANGLADESH‬

কিছু মানুষ অতীত শিকড় ছাড়তে পারেন না সহজে। সময়, প্রকৃতি, সমাজ বা সমাজের মানুষগুলোর স্বাভাবিক পরিবর্তনশীলতার সাথে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে চান না অথবা পারেন না। এধরণের মানুষেরা যেখানেই যান যাই করেন সঙ্গে থাকে তার অতি প্রিয় পুরাতন খাঁচাটি। শুধু তাই নয়, প্রচ্ছন্ন মনে তারা আশা করেন সবকিছুই পুরানো নিয়মে ঘটবে, সবাই আগের মতই চলবে। প্রকৃতির পরিবর্তন ঘটে, পরিবর্তিত হয় সবই; শুধু তারাই থমকে থাকে। তাদেরকে পেছনে রেখেই সময় এগিয়ে চলে অবধারিত গন্তব্য পানে। পরিবর্তনহীনেরা একসময় হয়ে পড়েন নিঃসঙ্গ। —— (১৪০৮২৯)

বড় মাঠ আর হাটের মাঝখান দিয়ে বয়ে গেছে একটা খাল, বরষায় তার রূপ থাকতো ভয়ংকর খরস্রোতা, শুকনোর সময়ে শান্ত স্থির। সেই খালে পারাপারের জন্য স্রোতের সময়ে বিশাল দাঁড়ের একধরনের বড় নৌকার ব্যবস্থা থাকতো। চালককে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পুরো শরীর ব্যবহার করে একটা বিশেষ ভঙ্গিমায় দুলে দুলে সে নৌকা চালাতে হতো। দাঁড়টি বেশ বড় থাকায় পানিও ঠেলতে হতো বেশি, এতে মাঝির বেশ কষ্টই হতো বোধহয়। তো সেই নৌকা করে নদী পার হবার সময়ে প্রায় প্রতিবারই যাত্রীরা নৌকার সামনের দিকে ভীড় করে দাঁড়িয়ে থাকতো, যেন তাদের ভীষণ তাড়া। এইরকম পরিস্থিতিতে নৌকার সামনে ওজন বেশি হওয়াতে পেছনে দাঁড় বাওয়া মাঝিটি তার দাঁড়ে প্রয়োজন মতো পানি পেতো না ফলে নৌকাও ঠিকভাবে চলতো না। মাঝি গলা উঁচিয়ে বকাঝকা করে যাত্রীদের নৌকার মাঝামাঝি এনে আবার দাঁড় চালাতো। নৌকাও চলতো। কিন্তু যাত্রীরা খানিক পরেই আবার এলোমেলো হয়ে সামনে চলে যেতো… এমনি করেই মাঝিকে নৌকো পার করতে হতো প্রতিবার…

: খুবই চমৎকার স্মৃতিচারণ, বাট মোরাল অব দ্য স্টোরি কী?

মোরাল অব দি স্টোরি হলোঃ

জীবনের নদীতে নৌকা চলছে,  নৌকায় যেহেতু উঠতে পেরেছো একদিন না একদিন পার হবেই, ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করো। তবে সাবধান,

১। যদি নিজেকে যাত্রী ভাবো তবে নৌকার বেশি সামনে থেকো না, নৌকা তার হালে পানি পাবে না, নৌকা চলবে না, দিক ওল্টে স্রোতে বহুদূর ভেসে যাবার সম্ভাবনা।

২। যদি নৌকার মাঝি তুমি নিজেই হও তবে আরও বেশি সাবধান, তোমার যাত্রীদের বেশি সামনে দাঁড়াতে দিও না, হালে তো পানি পাবেই না, নৌকা ওল্টে যাবার সম্ভাবনা প্রচুর। তখন তুমি তো ডুববেই, সবাইকে নিয়ে ডুববে…

প্রসঙ্গত, এখানে সামনে দাঁড়ানো বলতে আশা পূরণের তাড়াহুড়ো বোঝানো হয়েছে।।

।। ১৪০৮২৯।।

মাথা ব্যাথা অংশটুকু বাদ দিলে জ্বর খুব একটা খারাপ জিনিস না। শুয়ে বসে থাকতে থাকতে গত দুই দিনে পাঁচ টা বই পড়ে ফেললাম মোবাইলের স্ক্রিনে (পিডিএফ সংস্করণ)… খুব হালকা টাইপের উপন্যাস, যেখানে চিন্তা ভাবনা করার প্রয়োজন নাই, খালি পাতা উল্টাও…!

অনেক বছর পর একটানা পড়লাম। বইয়ের ঝোঁকটা যে কোথায় গেলো…! একটা সময়ে কোথায় কার কাছে নতুন কোন্ বই পাওয়া যাবে সেই ধান্দায় থাকতাম। এই তালিকায় সবচে’ উপরের ব্যক্তিটি  ছিলেন পারভেজ রবিন।  সেসময় এই লোকটির সাথে মুখোমুখি দেখা হয়নি কখনো, বিভিন্ন মাধ্যম মারফত তার কালেকশনের বই আমাদের হাতে আসতো। কত খুঁজেছি ইনাকে!! আজ প্রায় ৩ বছর সেই ভাই আর আমি একই বাসায় থাকি। তবে এখন আর বই লাগে না।

উত্তরাধিকার সূত্রের সুযোগ নিয়ে বড় ভাইয়ের কাছ থেকে তার সংগ্রহিত এক শো-কেস ভর্তি বই দখল করে নিয়েছিলাম ক্লাস সিক্সে থাকতেই, বছর ঘুরতে না ঘুরতেই সব পড়া শেষ। যদিও পরবর্তিতে আমার ব্যপক দানগিরি স্বভাব আর আলসেমির কারণে সেই সংগ্রহের ১০ ভাগের একভাগের মত অবশিষ্ট আছে মনে হয়। তবে বিশ্বস্ত কিছু বইপাগল ছোটভাইদের কাছে খবর পাই এখনো নাকি অনেকের বাসাতেই আমার ব্যক্তিগত লাইব্রেরির সিল অংকিত বই দেখা যায়! তবে আলসেমি কিংবা লজ্জা কোন এক কারণে সেগুলোর খোঁজ আর নেওয়া হয়ে ওঠে না।

আগে বইয়ের পাতায় পাতায়  ঘুরে বেড়াতাম এক দেশ থেকে আরেক দেশ; এই জাতি থেকে আরেক জাতি;  এখন এই বইগুলোর জায়গা দখল করে নিয়েছে হাতের চৌকোনা স্মার্ট ফোন আর ইন্টারনেট, এখন বিনোদন খুঁজি গুগলে কিংবা ইউটিউবে; বই পড়ার সময় কই…!

বাই দ্য ওয়ে, বাসার সবার ধারণা আমি হুদাই সারাদিন মোবাইল নিয়ে পড়ে থাকি…!!!